Friday, 2 March 2012

শর্মিষ্ঠা ঘোষ



হাত ছিলনা

আমার কোন হাত ছিলনা , যা ঘটে সব অন্যরকম
আমার ইচ্ছে কেউ শোনেনি, যে যা বলে নিজের কথন
আমার কোন তাপ ছিলনা অন্য কারোর যাওয়া আসায়
নির্বিকল্প একহারা টান ইচ্ছে সুখে খুব ভেসেছি
তোমার সাথে ছল করিনি , তিন সত্যি খোদার কসম
অন্য ঘাটে পেছল খাবার বান্দা এ নয় , সাচ্চা ইমান
আমার বুকে জোর ছিলনা মুখ ফেরানোর তোমার থেকে
আমার কোন ভুল ছিলনা একনিষ্ঠ একলা চাওয়ায়
আমার সত্যি হাত ছিলনা, নিঠুর কালা , ভুল বুঝেছ
এমন কি আর পাপ করেছি , আত্মঘাতী ভালবেসে



প্রসেনজিৎ দত্ত


চুমকুড়ি মিঠিছুরি


ছাইমূল নষ্ট ছুঁড়ি
ছুঁড়িবদন জ্যোৎস্না জলাশয়ে
চুমপানে ফিকে হলে মন্দামুখ
শুরু হয় ঠোঁট-পালিশ
মাছপথে

সেই পথে রাত্রিবাস
ডোবা ছাই বোবা হয়
রাত্রি সর্বনাশ!!





বচন নকরেক


অনেক মৃত্যু আগে -

মাকড়সার জালে ঝুলছে কোন জন্ম আগের পালক...
পুরোনো বাড়ির চালে
খর বিছানো মাদুর,
বইপত্র
ছড়ানো ছিটানো,
তেলচিতচিতে বালিশে কার চিঠি
পড়ে আছে
কোন শালিক পালক রেখে চলে গেছে কবে......!

সোমনাথ দে


শ্রোণি পাখনা

ওই মেয়ে আমাকে ভালবাসা দিবি ঘটি ভত্তি করে ?
লোকে তোকে নষ্ট মেয়ে বলে
আমায় ভালবেসে এক ছিলিম কষ্ট সঞ্চয় করে রাখবি !
সত্যি বলছি তুই ভালবাসা দিলে নিজের জন্যে একটা পাঞ্জাবি কাটাতে দব ব্যাঙ্কের আমানত ভেঙে
তুই চাইলে একজোড়া ছাপা শাড়িও তোকে কিনে দিতে পারি মকদম মার্কেট থেকে
চল না বীথি নদীর পারে গিয়ে বসি গল্প করব
কথা দিচ্ছি গায়ে হাত দেব না শুধু তোকে পাশে নিয়ে ঢেউ সাঁতার খেলবো মনে মনে
পাশে বাবুদের আমবাগান থেকে কাঁচামিঠে আম পেড়ে এনে দেব চুরি করে একবার আমার জন্যে হাসলে
তোর আলসেমি এলে আমি পিঠ পিঠ পেতে দেব চওড়া রোদের মতন দুদণ্ড জিরিয়ে নিবি
ভয় নেই ! আমি পাহারা দেব
যদি দুঃস্বপ্নে ঘুম ভেঙ্গে যায় বাবার মতন তোর চোখ দুটোকে বুকেতে লুকিয়ে রাখবো

আমিও নষ্ট ছেলে চলে যাব যাবার সময় এলে
আমার নামে হুলিয়া জারি হয়ে গেছে বাবুদের রোষানলে
আমি লুকাতে এসেছিলাম তাই বীথি নদীর পাড়ে
ক্ষমা করে দিস আমায় এই মেয়ে
ভাবিস না যেন আমি সেই যে শুধুই কাড়ে আর মারে ...


নির্মাল্য বন্দ্যোপাধ্যায়


পাখি ও পাগল


সমান্তরাল চলিঅন্তরাল শব্দটি বিযাদ ডেকে আনে
স্থানু সরণীতেকাটাকুটি খেলা দিনের সাঁতার ডুবে যায়
অনর্থের ভাসানপুকুরেএক পরিমিতি বিহীন জ্যামিতি
পেরিয়ে চলো হে মন ভরানদী গুরুবাক্য সাবধানের মার...

মারের ও সাবধান নেইতাসঘরনেই ন্যায্য-অন্যায্যের বোধ
গা-ঘেঁষে বসার ইচ্ছা বারোয়ারী আবর্তের পরিপূর্ণতায়
সম্পর্ক আগাছা ছিলামন্ত্রশক্তি অসংকোচ শারীরি রোপণ
মনের ভ্রমর বেঁচে থাকপাখি যাহা যায় পাগলের যায়..

নীলাঞ্জন সাহা


রুমাল

মানুষ কখনো নিজের রুমালে কাঁদে না , ঘাম মোছে
রোদ বা সামান্য বৃষ্টিতে মাথায় জড়ায় কিম্বা
বাড়ি ফেরার পথে কিনে আনে দেশী মুরগির ডিম ;
আমি আজ পর্যন্ত কাওকে নিজের রুমালে কাঁদতে দেখি নি !

আসলে , মানুষ তেমন কোনো রুমাল না পেলে কাঁদে না ! 

মার্ক অন্তিম


বোধ

একদিন হঠাৎ করেই আমার জ্যান্ত পাখি পুড়িয়ে খাবার ইচ্ছা হলআর ইচ্ছা হওয়া মাত্রই আমার খাঁচায় বন্দী দুটি লাভ বার্ডের একটি ধরে নিয়ে গ্যাসের চুলোয় পুড়ানো শুরু করলামপাখিটি অবশ্য প্রাণপণে বাঁচবার চেষ্টা করছিল যদিও তা নিরর্থক ছিলধীরে ধীরে পুড়ে যাওয়া পাখিটি আমার কাছে অতীত হতে থাকলআমি পাখাশুদ্ধ খাওয়া শুরু করলামকোন স্বাদের অস্তিত্ব না বুঝলেও পেয়েছিলাম দানবীয় তৃপ্তিপরদিন সকালে উঠে ঐ লাভ বার্ডটি দেখা শুরু করলামসঙ্গীহীন যে সে তার কোন অনুভূতি নেইনেই চিৎকার, নেই আর্তনাদখাবার পাওয়ামাত্রই ছিল উৎফুল্লএটাই আমার দৃষ্টিকটু লাগলোমনে প্রশ্ন জাগল,একাকীত্ব কি ভালবাসার পাখিই বুঝে না? নাকি একই ঘরে থাকলেও ভালবাসা সৃষ্টি হয় না যদিও কথা এসে যায় জৈবিকতারএকটু পরেই এই পাখিটিকেও গলা টিপে মেরে ফেললামকিন্তু রক্ত বের হয়নি দেখে অবাক হলামএটাও শিখলাম, শরীরের বাহিরের ক্ষত আর ভিতরের ক্ষত এক নয়!