Friday, 2 March 2012
অশোক দেব
শুনেছি জ্যোৎস্নারাতে
একটি গোপন নৌকো ঘাটে ঘাটে ঘোরে
বহুকাল এই গ্রামে থেকে আমি দেখিনি
শুধু শুধু নদীর নামে রটিয়েছি
অপবাদ
আজ মনে হয় সব ঘাটেই রাতে রাতে
মিশে যায় জল
নদী আর নৌকোতে চলে অভিমান
সুচেতা রায়
কেন তুই মেঘ হতে গেলি
নবেন্দুকে দেখে রির্চাজ করে
নিচ্ছি সব না দেখা
ভূপালী রাগ মিশে যাচ্ছে আমাদের
সব কথায়
সমস্ত জট খুলে নিরস্ত্র হচ্ছে
শিশিরে বসা আলাপ
ওর চোখের নীচে সেই সবুজ কোলাহলের
ছবি
বিবরণ হাতে পার হয়ে যাচ্ছি তোমার
নতুন শহর
যেখানে জলের নীচে হেঁটে যায়
মেঘ চোখে থাকে মাছ ও তারপর...
মহাশ্বেতা আচার্য মহাশ্বেতা আচার্য
ব্রত
অযাচিত প্রাপ্তির ভিড়ে হারিয়ে
যাচ্ছি ফের...
দিবারাত্র হাজার হাজার আলো সব
ছিন্ন মুহূর্তে এসে পড়ে
নিস্তব্ধ হয়ে যায় আবার আবার...
জানি না কোথায় তাদের সমাপ্তি
আমি সূচনাও খুঁজিনি কখনো,
তবু অসংখ্য আলোকবর্ষ তাকিয়ে
থেকেছি একা...
আর দূরত্বে একে একে সমর্পণ করেছি
দিন রাত আবহমান শোক
দেখো, চিরন্তন সখ্যতায় আজও প্রতি অনুপলে
জড়িয়ে ধরে আছি নিয়তি
- আমার উপবাস তোমার অরন্ধনে...
বাণীব্রত কুণ্ডু
মাঝিপাড়া ও ইন্দ্রদেবের দল
জানি না কখন রাত্রি চলে যাবে
জোনাকিরা নিভে যাবে সব
মাঝিদের পাড়ায় পাড়ায় দুরভিসন্ধি
চাঁদ লিখে যাবে
মাল্লাগান; বহরে বেরিয়ে গেলে পুরুষদল
ইন্দ্রেরা যে যে ভাবে আসে, চলে আসে
প্রবেশ করে, রুদ্ধদ্বার কপাটের ওপারে ভেঙে পড়ে
মেরুদণ্ড, ফুলে ওঠে সুষুম্না, স্নায়বিক
হাড়
ভালোবাসা নিংড়ে নিয়ে ফেলে যায়
মূর্ছিত গোলাপ
সে আবার ধীরে ধীরে তেজি হয়ে
ওঠে
সকাল ফোটে মাঝিদের পাড়ায় পাড়ায়।
ঋষি সৌরক
লেটজ্ সুইসাইড
কূট সাহিত্য থেকে বের করে দেওয়া
হল আমাকে সাথে সাথে আমার “আততায়ী কবিতা সিরিজ”...কবিকে এ হ্যানো অপমানের ঘটনা খুব একটা পুরানো নয় কিন্তু অতি যত্নে
সাজিয়ে তোলা আমার কবিতার বাগান এক নিমেষের বিস্ফোরণে উড়ে গ্যালো শুধু কিছু পাষণ্ডের
স্বার্থসিদ্ধির নির্মম ব্যারিকেড হিসাবে ...”কূট” দেখে নেবো,একদিন আমারো দিন আসবে,আমার এবং আমার শিল্পের সাথে যে জঘন্য অপমান হয়েছে,তার বদলা নেবো আমি-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে চুষে নেবো সক্কলের গলা...ছিনিয়ে
নেবো নিজের তাজ...নিছকই যদি না পারি কেউ থাকবে না ...না আমি ...না কেউ ...
শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ
রূপকথা
যেখানে সংশয় আছে সেখানেই কিছু পায়রা মরে আছে; পালকের ছেটানো ভ্রমে কিছু ডানার স্মৃতি। যদি আজ-ও নাই পারো ছুঁতে তবে এই দেশ
আমাদেরও হবে। অপঘাতে বেঁচে যাবে কিছু কেন্নো-জীবন। বাজের চুমুতে ছাই বটগাছ, সদর জংশন জুড়ে কথাকলি ট্রেনের বাণিজ্য ভ্রমণ- ফকিরের ঝোলা থেকে ছিলিমের উঁকি। শূণ্য থেকে শুরু করে শূণ্যতায় যে ফিরেছে একমাত্র
সেই জানে বই থেকে পান্ডুলিপিতে ফেরা হয়না। যে সমুদ্রস্নান অলৌকিক দাম্পত্যের স্বাক্ষী, তাকে চিঠি লিখছি আজীবন। পুনশ্চে লেখা থাকে, আমরাই প্রকৃত রূপকথা পায়রা-বাজারে।
সাহারা জিপ্সি
২৬ / ০২ / ২০১২
অনেক,
অনেকদিন পর আয়নার সামনে দাঁড়ালাম,
আর,
অনেক,
অনেকদিন পর দেখতে পেলাম
এক আশ্চর্য চশমাধারী গর্দভকে।
অতিপরিচিত এক গর্দভ,
কোনো মানবীর গর্ভ ভ্রমবশত:
আশ্রয় দিয়েছিল তাকে,
কিছুদিনের জন্য।
অতঃপর বিতাড়িত,
তথাপি অত্যন্ত হতাশাজনকভাবে নিশ্চেষ্ট,
আমার অনিকেত বান্ধব, বাল্যসখা।
"কেমন আছ?" প্রশ্ন করলাম।
হাসল বোধহয়,
দেখতে লাগল ঠিক পরিত্যক্ত কবরখানার মত।
ডানহাতটা তুললো একটু,
যেন আমাকেই অভাগা দিচ্ছে আশ্বাস।
খেয়াল করলাম,
বেখেয়ালে উত্তর দিচ্ছে আমার জন্মসূত্রে পাওয়া বামহাত।
"এসব কি হচ্ছে?" রাগলাম,
কারণ,
পরিচালিত হতে না চাওয়াটা
মানবপ্রজাতির গর্বিত বৈশিষ্ট্য।
"এই, দেখছি একটু," বোকার মত কাশল আবার,
হাসল,
ওভারহেড তারে ঝুলতে থাকা
ছেঁড়া কাপড়।
( "বহু ধ্বংসস্তূপে ঘুরেছি আমি,
চেহারাটাও হয়েছে তাই
ইট-কাঠ-বালির মত।" )
"আসতে পারো," দেখালাম আমি
কলমদানিটার দিকে।
মনে হল যেন কাঙালকে দেখাচ্ছি
শাকের ক্ষেত।
"সত্যি?" একচিলতে হাসি এল,
(ডিম ফুটে ছানা বেরনোর আগে,
পার্থ,
যেভাবে তিরতির করে কাঁপে ডিমের খোলস!)
আর,
আমি,
একবিংশ শতাব্দীর ব্যর্থতম ব্যক্তি,
একজন ডাইনোসর-যুগের
প্রায়-মৃত আয়না আমাকে বিশ্বরূপ দর্শন করালো।
সরস্বতী নদীর জীবনী বয়ে গেল
আমাজনের হিংস্র শ্বাপদের দাঁতের গোড়া দিয়ে।
আধো-অন্ধকারে কত যুবক কথা বলে চলে গেল,
কত জনপদে।
তাদের ভাষারা শুধু বসে ছেঁড়া-ছেঁড়া সুতো বুনল
চায়ের টেবিলে।
তারপর এল যুদ্ধ।
রক্তের শ্যাওলায় পা হড়কাতে গিয়ে
ভাগ্যিস,
ধরে ফেললাম
কূপমন্ডূকতার দেওয়াল।
নরম সবুজ ক্যাসাবিয়াঙ্কারা সব মরে গেলে
সেই আগুন দিয়ে ধীরে-সুস্থে ধরালাম একটা সিগারেট।
তারপর আয়নার দিকে চোখ তুলে বললাম,
"কলমদানিটা ফাঁকাই পড়ে আছে।
চলে এসো,
ভাড়া লাগবে না।"
Subscribe to:
Posts (Atom)